ব্যাংক ও আর্থিক খাতে লেনদেন কমেছে

২ শতাংশের বেশি বেড়েছে সূচক

দেশের পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহে সূচক ও লেনদেন দুটোই ঊর্ধ্বমুখী ছিল। আলোচ্য সপ্তাহে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ২ দশমিক ২৭ শতাংশ।

দেশের পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহে সূচক ও লেনদেন দুটোই ঊর্ধ্বমুখী ছিল। আলোচ্য সপ্তাহে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ২ দশমিক ২৭ শতাংশ। পাশাপাশি দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ১৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ। ডিএসইর সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

গত সপ্তাহে ব্যাংক ও আর্থিক খাতে লেনদেন কমেছে। আলোচ্য সপ্তাহে ব্যাংক খাতে লেনদেন হয়েছে ১৩৯ কোটি টাকা, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৭৬ কোটি টাকা। অন্যদিকে গত সপ্তাহে আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে লেনদেন হয়েছে ৪০ কোটি টাকা, আগের সপ্তাহে যা হয়েছিল ৫৮ টাকা।

পুঁজিবাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহের ডিএসইএক্স সূচক এর আগের সপ্তাহের তুলনায় ১১৬ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ২২২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ৫ হাজার ১০৫ পয়েন্ট। এছাড়া গত সপ্তাহে নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ৫৬ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯৩৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ৮৮২ পয়েন্ট। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গত সপ্তাহে ২৭ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৬৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১ হাজার ১৪০ পয়েন্ট।

ডিএসইতে গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া মোট ৪১৩টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৭২টির, কমেছে ১৬৮টির আর অপরিবর্তিত ছিল ৫৭টির দর। এছাড়া লেনদেন হয়নি ১৬টির।

গত সপ্তাহে সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ইসলামী ব্যাংক, বীকন ফার্মা, গ্রামীণফোন ও পূবালী ব্যাংকের শেয়ার। ডিএসইতে গত সপ্তাহে চার কার্যদিবসে মোট ১ হাজার ৪৯২ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। এর আগের সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে যা ছিল ১ হাজার ৬১১ কোটি টাকা।

খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ২৪ দশমিক ৫ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৬ শতাংশ দখলে নিয়েছে বস্ত্র খাত। ৯ দশমিক ৩ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্যাংক খাত। এছাড়া ৮ দশমিক ৬ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে চতুর্থ অবস্থানে ছিল প্রকৌশল খাত। আর খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের দখলে ছিল ৬ দশমিক ৭ শতাংশ।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে শুধু আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও মিউচুয়াল ফান্ড খাতে নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এ দুই খাতে নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে যথাক্রমে ১ ও দশমিক ৪ শতাংশ। আলোচ্য সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে টেলিযোগাযোগ, ওষুধ ও রসায়ন এবং পাট খাতে। এসব খাতে নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে ৪ দশমিক ৭, ৩ দশমিক ৭ ও ২ দশমিক ৩ শতাংশ।

দেশের আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেড়ে ১৪ হাজার ৫২৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসসিএক্স সূচকটি গত সপ্তাহ শেষে ১ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেড়ে ৮ হাজার ৮৪৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইতে গত সপ্তাহে ৪৫ কোটি ৮৯ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে হয়েছিল ২৬ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।

আলোচ্য সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৯১টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৩১টির, কমেছে ১৩৪টির আর অপরিবর্তিত ছিল ২৬টির বাজারদর।

আরও